বুধবার, ১৫ Jul ২০২৬, ০৮:১৫ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : নওগাঁর ধামইরহাটের আলোচিত রায়হান কবিরাজকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। র্যা বের অভিযানে কবিরাজের বাসা থেকে উদ্ধারকৃত বিপুলসংখ্যক নিষিদ্ধ ওষুধ পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ভাতকুণ্ডু মণ্ডলপাড়া গ্রাম থেকে আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার গণপতি রায়।
জানা গেছে, র্যাব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম মোহাইমেনুর রশীদের নেতৃত্বে র্যাব সদস্যরা বুধবার দুপুরে উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ভাতকুণ্ডু মণ্ডলপাড়া গ্রামের ভণ্ড কবিরাজ রায়হানের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে বিপুলসংখ্যক নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক, মাদক ও বিভিন্ন ধরনের তেলসহ কয়েক লাখ টাকার ওষুধ উদ্ধার করে। পরবর্তীকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গণপতি রায়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত কবিরাজ রায়হানকে কারাদণ্ড প্রদান করেন।
কবিরাজ রায়হান ওই গ্রামের সাদেক আলীর ছেলে।
এ দিকে র্যাবের এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবাড়ি পলাশতলী গ্রামের অটোরিকশাচালক তরিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কবিরাজ রায়হান এলাকার মানুষকে চিকিৎসা ও কবিরাজির নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রথমবার রোগীর কাছ থেকে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা নিয়ে কবিরাজ রায়হান চিকিৎসার শুরু করত। ১৫ দিন পর আবারও রোগীকে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বলত। এবার রোগীকে এক থেকে দেড় হাজার টাকা খরচ করতে হতো। কিন্তু ফলাফল শূন্য হতো। সে সব ধরনের রোগের চিকিৎসা করত।
রায়হান নিজেকে পল্লী চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিত। কিন্তু অভিযানের সময় সঙ্গে থাকা ধামইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আরাফাত ইমাম বলেন, তার একটি ড্রাগ লাইন্সেস আছে। তবে সে বাড়িতে মিনি চেম্বার দিয়ে অ্যালোপ্যাথিক, আয়ুর্বেদিক, হোমিও, ঔষধি, কবিরাজি, ঝাড়-ফুঁকসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দিত। নিজেকে পল্লী চিকিৎসক দাবি করলেও কোনো সনদপত্র দেখাতে পারেননি।
জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বদিউজ্জামান বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে রায়হান নিজ বাড়িতে সব ধরনের রোগের চিকিৎসা ও কবিরাজি শুরু করে। উদ্ধারকৃত নিষিদ্ধ ওষুধগুলো ঘটনাস্থলে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
নগরকন্ঠ.কম/এআর